Showing posts with label বাবা দিবসের কিছু কথা. Show all posts
Showing posts with label বাবা দিবসের কিছু কথা. Show all posts

Saturday, June 14, 2008

বাবা দিবসের কিছু কথা


চলমান সময়ের ধারা বেয়ে সামনে এলো বাবা  দিবস। অশ্রুতপূর্ব শব্দ হলেও বাবাদের জন্য সুখবরই বটে। তাদেরকে স্মরণ করবার কেউ ছিল না কোনদিন। কলুর বলদের মতো ঘানি টেনে জীবনের পথপ্রান্তে এসে কাঁধের জোয়াল খানি ফেলে দিয়ে থেমে যেতেন।  তাদের জীবনের যা কিছু অর্জন সবই পড়ে থাকতো এ মাটির পৃথিবীতে অন্য কারো ভোগের জন্য। আজ সময় বদলে গিয়েছে। তাই বাবা দিবসের কথা শুনতে পাচ্ছি। আমরা এখন পুরাতন, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে স্টোর রুম থেকে উদ্ধার করে, ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে একবার দেখবার প্রয়াস পাচ্ছি। বাবা ছিলেন পরিবারে হুঁশিয়ার কান্ডারী। আজও জীবিত বাবারা পরিবারের কর্ণধার। ঝড় ঝঞ্ঝা, সিডর অথবা নার্গিস, মানবিক কিম্বা অর্থনৈতিক যে কোন বিপদ থেকে পুত্র কন্যাকে নিজের বক্ষের ঢাল খানি দিয়ে ঘিরে রাখেন। তাদেরকে মানুষের মত মানুষ করবার, সুখী ও সম্মানের জীবন গ্রহন করবার জন্য তার সামর্থ্যের বাইরে চলে যান। সেই বাবাদের স্মরণ করা সত্যি একটি মহত কাজ। কাজ কর্মের ধারা অনুযায়ী বাবারা মায়ের মত সন্তানদের এত কাছাকাছি থাকতে পারেন না, সেজন্য হয়তো বাবাদের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের কিছুটা দূরত্ব থাকে। তবুও পিতা পিতাই। বুকের ঢাকনাটি উন্মুক্ত করলে দেখা যাবে অন্তহীন স্নেহ ভালাবাসা সন্তানদের জন্য বয়ে চলেছে নিরন্তর। মাকে যেমন ছেলেমেয়েরা অনায়েসে ডাকে,মা মাগো, কোথায় তুমি? বাবাকে সেভাবে বলতে পারেনা, বাবা, বাবাগো এই যে আমি। দেখ তোমার পাশে আমি তোমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি। সেই ছোট্টবেলা তুমি যেমন আগলে রাখতে আমাদের, বার্ধক্যে তোমার পাশে আমার আছি। বাবা তুমি মুক্ত করো ভয়, আপন মাঝে শক্তি ধরো-এই ভেবে যে তোমার সন্তানেরা তোমাকে ভালবাসে, তোমার বিষয় সম্পত্তির জন্য নয়, তুমি যে আমাদের সেই স্নেহময় পিতা। শিশুকালে তুমি যেমন আমাদেরকে ছায়া দিতে আজ আমরা তোমার এই বৃদ্ধ-শিশু জীবনে ছায়াতরু হয়ে তোমাকে আগলে রাখব। 
 
বৃদ্ধবয়সে যে পিতা পুত্রের হাত ধরে উঠে দাঁড়ায় তাতে তার গর্ব ও আনন্দের সীমা থাকে না - এই ই হওয়া উচিত বাবা দিবসের  স্মরণীয় বিষয়। কেবল শুভেচ্ছা সহ একখানি সুদৃশ্য কার্ড পাঠালেই চলবে না।
 
১লা আষাঢ় ১৪১৫
১৫ ই জুন ২০০৮
 

শিশু শ্রম -১৯৯৭